সংসদে যেতে চান বিএনপির সাংসদেরা

বিএনপির সাংসদদের বেশির ভাগই জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দিতে আগ্রহী। কিন্তু চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের নীতিনির্ধারকদের অনীহার কারণে বিরোধীদলীয় সাংসদেরা অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না।বিএনপির সংসদীয় দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি অধিবেশন শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর রাতে দলের কয়েকজন সাংসদ গুলশানের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা অধিবেশনে যোগ দেবেন কি না, তা জানতে চান। কিন্তু খালেদা জিয়া হ্যাঁ বা না কোনোটাই বলেননি। তিনি বলেছেন, উত্তরবঙ্গে তিনটি জেলা বগুড়া, রংপুর ও রাজশাহী সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফেরার পর এ নিয়ে আলোচনা করবেন।বিএনপির কয়েকজন সাংসদ এই প্রতিবেদককে বলেন, সংসদে যেতে তাঁরা আগ্রহী। কারণ, সংসদে বক্তব্য দিলে তা সারা দেশের মানুষ শোনে, গণমাধ্যমে আসে। সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে কিন্তু দলীয় চেয়ারপারসনসহ দলের নীতিনির্ধারকদের বেশির ভাগ অনীহা প্রকাশ করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, দলের সাংসদেরা সংসদে যেতে যান। এ জন্য তাঁরা দলীয় চেয়ারপারসনের কাছেও গেছেন। দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় বিরোধীদলীয় সাংসদেরা অধিবেশনে যোগ দেননি। তিনি জানান, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরবেন। এরপর ১৮ তারিখে একটা সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বিএনপির একাধিক সাংসদ জানান, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৯ জন। এর মধ্যে সাংসদ হলেন মাত্র পাঁচজন। খালেদা জিয়া বরাবরই সংসদে কম যান। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি মাত্র ২৮ কার্যদিবস সংসদে গেছেন। আর বর্তমান সংসদে এখন পর্যন্ত গেছেন মাত্র ১০ দিন।

এই সাংসদেরা আরও জানান, সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের চারজন—মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, জমির উদ্দিন সরকার ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বরাবরই আগ্রহ দেখিয়েছেন। অবশ্য সালাউদ্দিন কাদের এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জেলে আছেন। এর বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের পক্ষে চেয়ারপারসনের সঙ্গে ঘন ঘন দেখা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া দলের বেশির ভাগ সাংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতা। তাঁরা চাইলেও সব সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন না।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্য, এমন একজন সাংসদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি একটি বৈঠকে চলতি অধিবেশনে যাওয়ার বিষয়টি উঠলে সাংসদ নন এমন কয়েকজন সদস্য বলেন, এ নিয়ে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আলোচনার দরকার নেই। এটা সংসদ সদস্যদের ব্যাপার, তাই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা উচিত।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সংসদে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি সাংসদ নই। এটা সাংসদদের বিষয়। সংসদীয় দলের বৈঠকে এটা সিদ্ধান্ত হবে।’ আর বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, দল সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত সংসদে যাওয়া না-যাওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।’

১২ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশন চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, এই অধিবেশনই হবে নবম সংসদের শেষ অধিবেশন।