সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা দুরূহ

চার দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের দ্বিধার কথা জানালেন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ। গতকাল রবিবার তিনি বলেন, ‘সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা দুরূহ ব্যাপার। সংসদ ভেঙে গেলে নির্বাচন করা সহজ হবে।’ এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বহাল রেখে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, ‘বিষয়টি চূড়ান্ত কি না বা এটা তাঁর শেষ কথা কি না, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা জানি না সংসদ বহাল রেখে, নাকি ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে।’
সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সংসদ ভেঙে গেলে, ভেঙে যাওয়ার দিন থেকে পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন কী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে, নাকি সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে আবু হাফিজ বলেন, ‘সংসদ বহাল রেখে, নাকি ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে- সেটা কমিশন এখনো জানে না। আগে হলে কমিশন এক রকম প্রস্তুতি নেবে। পরে হলে ভিন্ন রকম প্রস্তুতি নিতে হবে।’
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কবে হবে, সেটা ঠিক করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয়। সংসদ বহাল রেখে, নাকি ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে- সেটা রাজনৈতিক দল এবং সরকার ঠিক করবে। এ বিষয়ে আইনের নির্দেশনা আছে। তবে সরকার এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে কমিশন মতামত দেবে।’
নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুস্পষ্ট সময় নির্ধারণ নিয়ে দোটানার কারণে কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আবু হাফিজ বলেন, এ নিয়ে কমিশনে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা সিদ্ধান্তহীনতা নেই। প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট সময় আছে। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে, ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ শেষ হয়েছে। মালামাল কেনার কাজ চলছে। নির্বাচনী আইন সংশোধনের পর আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন হবে কি না- এ প্রশ্নে কমিশনার বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না এমন কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন নেয়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই কমিশন নেবে।