সংসদ রেখেই ইসির নির্বাচন প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ এবার জানালেন সংসদ বহাল রেখেই আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বললেন, সংসদ সদস্য পদ লাভজনক নয়। তাই সংসদ বহাল রেখে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। নির্বাচনে সংসদ সদস্য ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ রেখে আচরণবিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে কঠোর আইন করেও কোনো লাভ নেই। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হলে গণতান্ত্রিক চর্চা দরকার। গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর আবু হাফিজ বলেছিলেন, ‘সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা দুরূহ ব্যাপার। সংসদ ভেঙে গেলে নির্বাচন করা সহজ হবে।’ এ ছাড়া ‘সংসদ বহাল রেখে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর আবু হাফিজ বলেন, ‘বিষয়টি চূড়ান্ত কি না বা এটা তাঁর শেষ কথা কি না তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা জানি না সংসদ বহাল রেখে, নাকি ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে।’
এ দিন আবু হাফিজ আরো বলেন, রাজনীতিতে অনেক কথা হচ্ছে। সামনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হতে পারে, সমঝোতা হতে পারে। কমিশন এখন সে দিকে তাকিয়ে আছে। সে জন্য ইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে। কমিশনের সামনে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে একটা সমঝোতা হতে পারে।
আবু হাফিজ গতকাল আরো বলেন, ‘সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর নেই। এখন যে অবস্থায় নির্বাচন করতে হবে, ব্রিটেনে একইভাবে নির্বাচন হয়। কিন্তু তাদের নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে কোনো আইনের প্রয়োজন হয় না। তাদের তো সংবিধানই নেই। ব্রিটেনের আজকের এই অবস্থা একদিনে হয়নি। তারা গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চার মধ্য দিয়েই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তাই আমাদেরও গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। না হলে নির্বাচনী আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনলেই সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে না।’
আবু হাফিজ বলেন, ‘ভারতবর্ষ ভাগের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানে কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি। কিন্তু ভারতে এসেছে। আমাদের এখানেও আসেনি। তবে আমরা আশা করতে পারি, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এখানেও স্থিতিশীলতা আসবে। হয়তো একটু সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য পদ লাভজনক নয়। এ নিয়ে একটি রায় হয়ে গেছে। তাই সংসদ সদস্য পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে তাঁদের আর কোনো অসুবিধা নেই। তবে সরকারদলীয় এমপি, মন্ত্রীরা কী করতে পারবেন আর পারবেন না, তা খুব কঠোরভাবে আচরণবিধিতে উল্লেখ থাকবে। তাঁদের জন্য যেন আলাদা কোনো সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই আচরণবিধি প্রণয়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব দেশে সংসদ বহাল রেখে বা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, সেসব দেশের উদাহরণ আমলে নেওয়া হবে। তবে ভারতের সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের অনেক মিল রয়েছে, তাই তারা কিভাবে নির্বাচন করে সেটা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’