সফরসঙ্গী ১৪০ বৈঠক একান্ত!

বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের আলোচনা হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুজনের একান্ত আলোচনা হবে।

১৪০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার রাতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। গত চার বছরে এটা প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় বহর নিয়ে বিদেশ সফর।

জাতিসংঘে (নিউইয়র্ক) বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা দেওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যায় বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ চার থেকে পাঁচজন উপস্থিত থাকবেন। তবে নিউইয়র্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বান কি মুনের বৈঠকটি হবে একান্ত এবং তা ২০ মিনিট স্থায়ী হবে।

প্রধানমন্ত্রী-বান কি মুনের এই বৈঠকের দিকে এবার দেশ-বিদেশের দৃষ্টি থাকবে। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এর আগে বান কি মুন বাংলাদেশের দুই নেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংলাপের মাধ্যমে সংকট কাটানোর তাগিদ দিয়েছিলেন।

১৪০ সফরসঙ্গী: প্রধানমন্ত্রীর মূল সফরসঙ্গী ৯৪ জন। তাঁদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ জন, পররাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয়ের নয়জন, অন্য মন্ত্র্রণালয় ও সংস্থার চারজন, নিরাপত্তা দলের ১৯ জন, বিশিষ্ট নাগরিক ৩০ জন, বিশিষ্ট সাংবাদিক পাঁচজন ও গণমাধ্যমকর্মী নয়জন। আর ৪৬ জন যাচ্ছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মূল সফরসঙ্গীদের খরচ সরকারিভাবে বহন করা হয়। আর ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ ধরনের সফরে নিজেরাই নিজেদের খরচ মিটিয়ে থাকেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে এবারের নিউইয়র্ক সফরেই প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশিসংখ্যক লোকজন নিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন যথাক্রমে ৮১, ১০২, ৮৭ ও ৮৭ জন।

এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা এম জিয়াউদ্দিন ছাড়াও রয়েছেন মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ ও সমাজকল্যাণসচিব সুরাইয়া বেগম।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে সফরসঙ্গীর তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ ১০ জন সাংসদ।

বিশিষ্টজনের এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমও। আছেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুন নেসা ও আলেয়া সারোয়ার, ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক মিনু রহমান প্রমুখ।

মহাজোটের শরিক কয়েকটি দলের নেতারাও আছেন সফরসঙ্গী হিসেবে। তাঁরা হচ্ছেন ন্যাপ (মোজাফফর) নেত্রী ও সাংসদ আমেনা আহমেদ, গণ আজাদী লীগের সভাপতি আবদুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, জাসদের নেত্রী ও জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরিন আক্তার, জাসদের নেত্রী ও পেশাজীবী নারী সমাজের সাধারণ সম্পাদক আফরোজা হক।

আছেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান বিশ্বাসও।

নিউইয়র্ক থেকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে বক্তৃতা করবেন। এ ধরনের বক্তৃতার সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সর্বোচ্চ ১০ জন উপস্থিত থাকতে পারেন। এর বেশি লোকের জন্য পাস জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব এবং অনেক সময় অসম্মানজনক হয়ে পড়ে।

সাধারণ পরিষদের কর্মসূচি, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে নির্ধারিত কিছু কর্মকর্তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকে। কিছু অনুষ্ঠানে সফরসঙ্গীদের মধ্যে নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদেরই কেবল অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার থাকে।

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সফর আয়োজনের অভিজ্ঞতার আলোকে একাধিক কূটনীতিক এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ধরনের সর্বোচ্চ সফরে এত বিপুলসংখ্যক লোকের কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে না। সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ ধরনের সফরে গিয়ে সফরসঙ্গীদের বড় অংশই থাকেন বনভোজনের মেজাজে। তাঁদের অধিকাংশই বিদেশে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর কেনাকাটা করেন।

সাধারণত এ ধরনের সফরে হোটেল ও বিমানভাড়া ছাড়াও নগদ ভাতার পাশাপাশি ট্রানজিট ও টার্মিনাল ভাতা দেওয়া হয় সরকারিভাবে।

এবারের সফরে একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার আর্থিক বরাদ্দপত্রে দেখা গেছে, তাঁর জন্য বিমানভাড়া, দৈনিক ভাতা, ট্রানজিট ও টার্মিনাল ভাতা মিলিয়ে পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ৬৮৯ টাকা খরচ হবে। তাঁর হোটেল ভাড়া দেবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশন।