ড. ইউনূস ইস্যুতে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

সবাইকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ খোঁজার তাগিদ

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথ খোঁজার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ জানিয়েছে। ড. ইউনূসের প্রতি সুবিচার করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত আলাদা দুটি মিডিয়া নোটে এ আহ্বান জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে মিডিয়া নোট দুটি প্রকাশিত হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কার্যালয় সাংবাদিকদের দুটি প্রশ্নের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান জানায়।
সাংবাদিকরা বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনসহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চান। পাশাপাশি প্রশ্ন করেন, সংঘাতহীন নির্বাচন ও সংলাপ অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী করণীয় কী?
উত্তরে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কার্যালয় বলেছে, ‘বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের একসঙ্গে এগিয়ে এসে আগামী মাসগুলোতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার উপায় খুঁজতে আমরা বারবার তাগিদ দিয়েছি।’
মুখপাত্রের কার্যালয় আরো বলেছে, ‘সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপায় কী হবে তা বাংলাদেশের দলগুলোই ঠিক করবে। তবে যেকোনো সমাধানই সংঘাতমুক্ত হওয়া জরুরি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) ও বেগম জিয়াকে (বিরোধীদলীয় নেতা) চিঠি দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য গঠনমূলক সংলাপে বসতে উৎসাহিত করেছেন।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি? এর উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কার্যালয় বলেছে, ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার কর ফাঁকির মামলা করতে পারে- সাম্প্রতিক এমন খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের বিশেষ করে নারীদের জীবনমান উন্নয়নে অধ্যাপক ইউনূসের তাৎপর্যপূর্ণ অর্জনের প্রশংসা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে এবং তাঁকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’
মুখপাত্রের কার্যালয় আরো বলেছে, ‘বাংলাদেশি আইনকানুনের সঙ্গে সংগতি রেখে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু উপায়ে ড. ইউনূসের প্রতি আচরণ করতে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাই।’
মিডিয়া নোটে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণী বিশেষ করে নারীদের উন্নয়ন ও কল্যাণে সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা ও গুরুত্ব অব্যাহত থাকাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’
মিডিয়া নোটে আরো বলা হয়, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের স্বতন্ত্র পর্ষদ কাঠামো অব্যাহত থাকাকেও আমরা সমর্থন করি। ব্যাংকটির টেকসই সাফল্যের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রত্যাশায় আছি আমরা।’
মিডিয়া নোটে বলা হয়, ‘লাখ লাখ বাংলাদেশির সামাজিক উদ্যোগ ও স্বচ্ছরতার বাহন গ্রামীণ ব্যাংক। দরিদ্র বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে চমকপ্রদ রেকর্ড আছে ওই ব্যাংকের। বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৩ লাখ ঋণগ্রহীতার ৯৬ শতাংশই নারী।’
মিডিয়া নোটে আরো বলা হয়, ‘গ্রামীণ ব্যাংক কেবল অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে ক্ষুদ্রঋণের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকাই পালন করেনি, সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত করে উন্নত জীবন দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, মন্ত্রিসভা গত সোমবার ড. ইউনূসের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।