সবার আগে ফাঁসি বিজয় চিহ্নধারীর!

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। আপিল বিভাগের এ চূড়ান্ত রায়ের পর ফাঁসির দণ্ড কত সময়ের মধ্যে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারেন আপিল বিভাগ। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শুধু কাদের মোল্লার মামলায় আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায় হয়েছে। বাকিদের সাজার বিরুদ্ধে আপিলের ওপর এখনো শুনানি শুরু হয়নি। ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড সবার আগে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ ৩ মার্চ ও কাদের মোল্লা ৪ মার্চ আলাদাভাবে দুটি আপিল দাখিল করেন। সরকারপক্ষের আপিলে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়। অন্যদিকে কাদের মোল্লা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগ সরকারের আবেদন মঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আপিল বিভাগের রায়ই চূড়ান্ত। এ রায়ের কপি পাওয়ার পর বিচারিক আদালত (ট্রাইব্যুনাল) সংশ্লিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন। প্রচলিত কারা বিধি অনুযায়ী এ পরোয়ানা জারির ২১ দিন পর ও ২৮ দিনের আগে যেকোনো দিন দণ্ড কার্যকর করা হবে। যদিও এরই মধ্যে তিনি প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর দণ্ড কার্যকর হবে। এ বিষয়ে সব আইনজীবী একমত। কিন্তু আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করার সুযোগ কাদের মোল্লা পাবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।
এ রিভিউ বিতর্ক মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যান্য মামলায়ও দেখা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে কাদের মোল্লার মামলায় এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে সব বিতর্কের অবসান হবে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী কাদের মোল্লার মামলায় দুটি আপিলের ওপর গত ১ এপ্রিল থেকে সর্বমোট ৩৯ কার্যদিবস শুনানি হয়। এর মধ্যে ১ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ৬ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মোট ১৪ কার্যদিবসে সরকারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সমন্বয়ক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। অন্যদিকে ২৯ এপ্রিল থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ১৮ কার্যদিবসে আসামিপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। এ ছাড়া ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অ্যামিকাস কিউরিরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। এরপর সরকারপক্ষ ও আসামিপক্ষ চূড়ান্ত মতামত দেয় এসব প্রক্রিয়া শেষে ২৩ জুলাই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরপর প্রায় দুই মাস অপেক্ষার পর চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কাদের মোল্লার মামলায় মূল আপিলের ওপর শুনানি হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে ৬ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ দুই মাসের মতো সময় লেগেছে এ শুনানিতে।
কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াতের আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা। এ মামলায়ও যদি মূল আপিলের ওপর দুই মাসের বেশি সময় লাগে, তাহলে নভেম্বর মাস লেগে যেতে পারে এর নিষ্পত্তি কাজে। এরপর রায় প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে পরে রায় কার্যকরের প্রসঙ্গ সামনে আসবে। কারা বিধি অনুসরণ ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার প্রসঙ্গও আছে। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে আরো সময় লাগবে। আর ফাঁসির সাজা বহাল না থাকলে, তা কার্যকরের প্রসঙ্গ উঠবে না। সেই হিসাবে কাদের মোল্লার মামলায় দণ্ড আগে কার্যকর হতে পারে।