সরকার, আ.লীগের পাল্টা প্রস্তুতি

২৫ অক্টোবর-পরবর্তী বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলায় পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার ও সরকারি দল। দলগত এবং প্রশাসনিকভাবের বিরোধী দলকে মোকাবিলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯ অক্টোবর সারা দেশের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক হবে। এর দু-এক দিনের মধ্যে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের অর্থাৎ দলীয় সাংসদ ও পরাজিত প্রার্থীদের ডাকা হবে। পাঁচ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রদেরও বৈঠকে ডাকা হতে পারে।

দলীয় সূত্র জানায়, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা দলীয়ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে দলীয় অবস্থান সুসংহত করা এবং বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণই এ বৈঠকের লক্ষ্য।

এ ছাড়া সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে।

সরকারের সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ বহাল রেখে এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আগে ২৫ অক্টোবরের পর সংসদ অধিবেশন বসবে না বললেও এখন বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত অধিবেশন চলতে পারবে।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা তফসিল ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের এই রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত রাখা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলায় দলগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বিরোধী দলও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন ও তা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাতের আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। এ অবস্থায় দুই দলের মধ্যে সংলাপ বা আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ২৫ অক্টোবর নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকির জবাবে বলেছেন, ‘বিরোধী দল নাকি ওই দিন কেয়ামত করে ফেলবে। তাহলে জনগণের নিরাপত্তা বিধান ও জানমালের রক্ষায় সরকারের দায়িত্ব আছে। অতীতে যেভাবে সরকার এ দায়িত্ব পালন করেছে, ভবিষ্যতেও সেভাবেই করবে।’

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, ২৫ অক্টোবরের পর বিরোধী দল আরেক দফা বড় আন্দোলনে যেতে পারে, তা মনে রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৭২টির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। শুধু আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর শাখার সঙ্গে বৈঠক হয়নি। ঈদের পরপরই তিনি মহানগরের নেতাদের সঙ্গে বসতে পারেন। তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর শাখা অবশ্য ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে সমাবেশ ডেকেছে। একই দিন বিএনপিও পাল্টা সমাবেশ করতে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২৫ অক্টোবর-পরবর্তী বিরোধী দলের আন্দোলন সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাইলে আমরা রাজনীতি দিয়েই তা মোকাবিলা করব। কিন্তু তারা আন্দোলনের নামে সহিংসতায় গেলে প্রশাসনিক ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, বিরোধী দল আতঙ্ক ও গুজব ছাড়াচ্ছে। তাদের দা-কুড়াল নিয়ে মিছিলের কর্মসূচি রাজনীতির ভাষা নয়, অস্ত্রের ভাষা। সহিংসতায় গেলে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, বিরোধী দল ১৫ অক্টোবরের পর সারা দেশেই সহিংসতা করতে পারে বলে সরকারের কাছে খবর আছে। এ কারণে শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ আছে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের নিয়ে সরকারের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেশি। সরকার মনে করছে, শুরুতেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।