সংসদে সুরঞ্জিত

সরকার চিরন্তন, এর কোনো মেয়াদ নেই

সরকারের দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, সংসদের মেয়াদ আছে। কিন্তু সরকারের মেয়াদ নেই। সরকার চিরন্তন।
গতকাল সংসদে পয়েন্ট পব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে সুরঞ্জিত এ কথা বলেন।
গত ২৫ অক্টোবর ঢাকায় বিরোধী দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ২৭ অক্টোবর থেকে এ সরকার অবৈধ।
এ প্রসঙ্গ তুলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, রাষ্ট্র একমুহূর্ত পর্যন্ত সরকারবিহীন থাকতে পারে না। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু সরকার থেকে যায়। সাংবিধানিকভাবে আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হন্তান্তরের আগ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের বৈধতা থাকবে। তিনি বলেন, সংবিধানের কোথাও সরকার যে অবৈধ হয় তা বলা নেই। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে এ কথা বলা নেই। বিএনপির চেয়ারপারসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে সুরঞ্জিত বলেন, ‘আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করে টিকে থাকতে পারে নাই। আপনিও পারবেন না। আপনি সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদী এটা প্রমাণিত হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনে করেছিলাম দায়িত্ববান মানুষ। কিন্তু তা না। একদিকে বোমা মারেন, আরেক দিকে সরকারের ওপর দোষ চাপান।’
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বেগম জিয়া নির্বাচনে আসবেন বলে আমি বিশ্বাস করি না। তাঁর লক্ষ্য এই সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে সুযোগ করে দেওয়া। তাঁরা অন্য কোনোভাবে সরকারের পতন চাচ্ছেন, নির্বাচন নয়।’
অনির্ধারিত আলোচনায় আরও অংশ নেন জাসদের মঈন উদ্দীন খান বাদল, জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক ও আওয়ামী লীগের তারানা হালিম।