মা ন ব তা বি রো ধী অ প রা ধে র বি চা র

সাকা চৌধুরীর রায় কবে

দেড় মাস আগে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখনো ঘোষণার অপেক্ষায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়।এতে ঘটনার শিকার ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেছেন, রায়ের পর আপিলসহ নানা বিচারিক প্রক্রিয়া আছে। এসব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক সময় লেগে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।গত ১৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ওই দিন রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে।তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য এম সানাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা ঠিক, দেড় মাসেও রায় না হওয়ায় মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগীসহ অনেকেই উৎকণ্ঠায় আছেন। যত দেরি হচ্ছে, তাঁদের উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।’এর আগে এই ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের মামলার রায় দিতে প্রায় তিন মাস সময় নেন। গত ১৩ জুলাই ওই রায় ঘোষণার সময় অবশ্য ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছিলেন, প্রচলিত ফৌজদারি মামলা থেকে ব্যতিক্রমধর্মী এ মামলার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করতে ও রায় সমৃদ্ধ করতে বেশি সময় লেগেছিল।গোলাম আযমের মামলা ছাড়া দুটি ট্রাইব্যুনাল আরও পাঁচটি মামলার রায় দিয়েছেন, যেগুলোর কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য গড়ে এক মাস করে সময় লেগেছে। ট্রাইব্যুনাল-১ প্রথম রায় দেন চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ওই মামলার রায় দিতে এক মাস সময় লাগে। ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মামলার রায় দিয়েছেন বিচারকাজ শেষ হওয়ার ৪০ দিন পর। এ ট্রাইব্যুনালে দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার মামলার রায় এসেছে যথাক্রমে ২৩ ও ১৮ দিনে, দলটির সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদের মামলার রায় আসে ২৬ দিনে।

এ মামলাগুলোর মধ্যে একমাত্র কাদের মোল্লার মামলাটির আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া যাবজ্জীবনের সাজা বাড়িয়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ দেন।

বিচারসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, দুই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন প্রতিটি মামলাই সমান গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রভাবশালী রাজনীতিক হিসেবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার ওপর মানুষের বিশেষ নজর আছে। প্রায় দেড় বছর ধরে বিচার চলা এ মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকে। এর আরেকটি কারণ, এর আগের সবগুলো রায়ই এসেছে জামায়াতের সাবেক বা বর্তমান নেতাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে এটা হবে প্রথম রায়।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ-আল-মালুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একমাত্র ট্রাইব্যুনালই বলতে পারবেন কবে রায় ঘোষণা করা হবে। তবে এত দিনে রায় ঘোষণা না হওয়ায় মামলার সাক্ষীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এমনিতেই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও ভুক্তভোগীরা প্রতিনিয়ত নানা হুমকি-ধমকির মুখে রয়েছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। রায় যা-ই হোক না কেন, সংক্ষুব্ধ দুই পক্ষেরই আপিল করার অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ অনুসারে আপিল করার জন্য এক মাস সময় থাকে।

 সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে মামলাটিও ট্রাইব্যুনাল-২-এ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালে আলবদর নেতা হিসেবে পরিচিত চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটিতেও এ ট্রাইব্যুনালে শেষ পর্যায়ের যুক্তি উপস্থাপন চলছে।