রায়ের কপি যায়নি

সাধারণ কক্ষে কাদের মোল্লা

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত কনডেম সেলে (মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের জন্য নির্ধারিত কক্ষ) নেওয়া হয়নি।

কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ফাঁসির রায় শোনার পর কারাগারে কনডেম সেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ৩২ ঘণ্টা পার হলেও রায়ের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছায়নি।

কাদের মোল্লা এখন গাজীপুরের কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর ৬০ নম্বর কক্ষে আছেন। রায় ঘোষণার পর থেকে সাধারণ কক্ষেই তাঁকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

গতকাল বিকেলে যোগাযোগ করা হলে কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘রায়ের কপি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমাদের হাতে আসেনি। এ জন্য তাঁকে (কাদের মোল্লা) সাধারণ কক্ষেই রাখা হয়েছে।’

গতকালও কাদের মোল্লা অন্যদিনের মতো কারাগারের ভেতরে বাগানের মালি হিসেবে কাজ করেছেন। মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকে তাঁকে বিমর্ষ দেখা যাচ্ছিল বলে সূত্র জানায়। তবে তিনি ঠিকমতো নামাজ পড়েছেন ও খাওয়াদাওয়া করেছেন।

রায় ঘোষণার পর থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কাদের মোল্লার পরিবারের কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাননি। সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ার জাহান, ছেলে হাসান মওদুদ, নাতনি নাইমা আক্তার, ভাতিজা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন স্বজন কারাগারে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।

কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর কারাধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র ঘোষ বলেন, নিয়ম অনুসারে সাধারণ কয়েদিরা ১৫ দিনে একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। কিন্তু কনডেম সেলে থাকা আসামিরা তিন মাসে একবার সেই সুযোগ পান।

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশের পর এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি।

নিয়ম অনুসারে, আপিল বিভাগের রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ মামলার বিচারিক আদালত, অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে যাবে। সেখান থেকে ট্রাইব্যুনাল সাজার পরোয়ানা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠাবেন।

এ বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ আনিসুল হক গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, কারাবিধি অনুসারে রায়ের অনুলিপি কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাবে। যখন তারা জানবে কাদের মোল্লার আপিল খারিজ হয়ে গেছে, সে মুহূর্ত থেকে ফাঁসির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রক্রিয়া শুরুর ২১ দিন পর ও ২৮ দিন আগে ফাঁসি কার্যকর করার নিয়ম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিরুদ্দীন মাহমুদ গতকাল জানান, আপিল বিভাগ থেকে কোনো আদেশ এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যায়নি।

আসামিপক্ষও রায়ের পর পরই আদেশের সত্যায়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করেছিল। তারা গতকাল পর্যন্ত অনুলিপি পায়নি।