সালাহ উদ্দিনকাণ্ড: তদন্ত চান এমাজউদ্দীন

emaj
‘নিখোঁজ’ হওয়ার দুই মাস পর সালাহ উদ্দিন আহমদের ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা নিয়ে সরকার ‘নোংরা নাটক’ করছে অভিযোগ করে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন বিএনপিপন্থি পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।

শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান নিয়ে সরকার নোংরা নাটক খেলার চেষ্টা করছে। এটা অবাস্তব ও অবিশ্বাস্য। এসব নোংরা নাটক জনগণ বিশ্বাস করে না।”

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে ‘কারা ওপারে নিয়ে গেল’, সরকারের কাছে সে প্রশ্ন রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক উপাচার্য বলেন,  “কোথায় কোথায় তাকে নেওয়া হয়েছিল, কোন পর্যায়ে তাকে শিলংয়ের মেন্টাল হসপিটালে নেওয়া হল- এ বিষয়গুলো জনসম্মুক্ষে প্রকাশ করতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করুন। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন।”

দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গত সোমবার ভারতের শিলংয়ে ইতস্তত ঘোরাঘুরির সময় পাসপোর্ট-ভিসাহীন অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন। অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুলিশ তাকে হাসপাতালে পাঠায়।

পরদিন মঙ্গলবার শিলংয়ের একটি হাসপাতাল থেকে সালাহ উদ্দিনের ফোন পান তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। এরপরই বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোড়ন তোলে।

৫৪ বছর বয়সী সালাহ উদ্দিন দাবি করেছেন, অচেনা এক দল লোক উত্তরার একটি বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে আর কিছুই তিনি মনে করতে পারছেন না। সিলেট সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের শিলংয়ে কীভাবে এলেন, তাও তিনি বলতে পারেননি।

গত ১০ মার্চ উত্তরার ওই বাসা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তার স্ত্রী। অবশ্য সরকারের মন্ত্রীদের ইংগিত, সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধানের পেছনে তার দলেরই হাত ছিল।

বিএনপিসমর্থিত পেশাজীবী সংগঠন ‘শত নাগরিক কমিটির’ আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন বলেন, “সালাহ উদ্দিন আহমেদ আমরা ছাত্র ছিলেন। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের প্রভোস্ট ছিলাম, তখন সালাহউদ্দিন ওই হলের ছাত্র ছিলেন। আজ তাকে নিয়ে সরকার নোংরা নাটক খেলার চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “সালাহ উদ্দিন দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন। কীভাবে তাকে ওপারে নেওয়া হলো? দেখা গেল, চকচকে জামা কাপড় পড়া। আবার পোশাক পাল্টানো হয়েছে। বলা হল, পাগলের মতো নাকি ঘোরাফেরা করছিলেন। সেজন্য মেন্টাল হসপিটালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। একটা সুস্থ তরুণ, সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে কে বা কারা শিলং পৌঁছে দিল… এসব বিষয় জাতির কাছে খোলাসা করা উচিৎ।”

সরকার জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে ব্যর্থ হলে এর দায় ক্ষমতাসীনদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“এখন তারা বিষয়টি চেপে গেলেও ভবিষ্যতে ক্ষমা পাবে না।”

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, “সালাহ উদ্দিনকে নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা যেসব কথা বলছেন, এসব কথা নয়, কু-কথা। তার চরিত্র হননের জন্য এসব করা হচ্ছে।”

সরকারের সমালোচনা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই শিক্ষক বলেন, “আজ এক ধরনের আধিপত্যবাদের শাসন চলছে। একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা নানা অপকর্ম করছে। এর অবসান করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।”

বিএনপিপন্থি সংগঠন স্বাধীনতা ফোরাম জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগপত্র প্রত্যাহার ও জাতীয় নেতাদের মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, খালেদা ইয়াসমীন, মিয়া মো. আনোয়ার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।