সালাহ উদ্দিন ‘অসুস্থ’, তদন্ত স্থগিত

sla

‘অসুস্থতার’ কারণে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে শনিবার আদালতে হাজির করতে পারেনি ভারতের মেঘালয় পুলিশ।

হৃদযন্ত্র ও কিডনি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার চিকিৎসা চলছে মেঘালয়ের শিলংয়ের সিভিক হাসপাতালে।

আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না চিকিৎসকরা।

ইস্ট খাশী হিলস জেলার এসপি এম খারক্র্যাং  বলেন, চিকিৎসকরা না ছাড়লে সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করতে পারছে না পুলিশ।

“এখন তার শারীরিক অবস্থার উপর সব কিছু নির্ভর করছে। চিকিৎসকরা ‘ফিট’ বলার পরই তাকে আদালতে তুলবে পুলিশ এবং তদন্তও তারপর শুরু করা হবে।

“সালাহ উদ্দিন আহমেদের সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।”

সালাহ উদ্দিন আহমেদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া তিনি কীভাবে শিলংয়ে এলেন তা বের করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন পুলিশ কর্মকর্তা খারক্র্যাং।

সালাহ উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার কারণে তদন্তে বিলম্বের জন্য তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হয়েছে।

অন্যদিকে মেঘালয়ের ডিজিপি রাজীব মেহতা বলেছেন, বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনকে আটকের বিষয়টি পুলিশের কাছে ‘অন্য আর সব মামলার মতোই’ একটি মামলা।

কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে যারা ভারতে প্রবেশ করে তাদের যেভাবে আদালতে তোলা হয় সালাহ উদ্দিনকেও সেভাবেই তোলা হবে।

এদিকে শুক্রবার শিলংয়ে যাওয়া বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ জনি টেলিফোনে বলেছেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ‘কিডনি জটিলতার কারণে তীব্র ব্যথা’ অনুভব করছেন এবং তিনি শুক্রবার সারা রাত ঘুমোতে পারেননি।

সালাহ উদ্দিনের আরো উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যা শিলংয়ে সিভিক হাসপাতালে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক জনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সালাহ উদ্দিন হৃদরোগেও ভুগছেন, যার চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর যেতেন।

‘এ পরিস্থিতিতে আরো উন্নত মেডিকেলে’ তার চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবারও সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছেন জনি। সালাহ উদ্দিনের বিষয়টি ‘খুব মানবিকভাবে’ দেখার কারণে পুলিশের প্রশংসা করেছেন তিনি।

“তারা সহযোগিতা না করলে তার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হতে পারতো।”

নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ তার মাধ্যমে মেঘালয় রাজ্য সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানান জনি।

সালাহ উদ্দিনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সোমবার শিলংয়ে পৌঁছানোর একটি সম্ভাবনা আছে এবং তারপর মামলা পরিচালনার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ঠিক করা হতে পারে।

জনির ভাষ্যমতে, রোববার নাগাদ ভিসা পেয়ে মেঘালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেন হাসিনা আহমেদ।

এদিকে শনিবার বিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, হাসিনা আহমেদ ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

“রবি-সোমবারের মধ্যে ভিসা পেলে হাসিনা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে শিলংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। তিনি সেখানে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কাছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে কিছু নেই।”

এক প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, দলের সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ব্যবসায়িক কাজে আগে ভিসা করে রাখায় ব্যক্তিগতভাবে তিনি শিলং গেছেন। শিলংয়ের সিভিক হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।

দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গত সোমবার শিলংয়ে পাসপোর্ট-ভিসাহীন অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন। অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুলিশ তাকে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন মঙ্গলবার শিলংয়ের সিভিক হাসপাতাল থেকে স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে ফোন করেন সালাহ উদ্দিন।

শিলং পুলিশ শুক্রবার তাকে আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেও ‘অসুস্থতার’ কারণে পরদিনই তা স্থগিত হয়ে যায়।

বিএনপির অবরোধে নাশকতায় প্রাণহানির মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি চালানোর আহ্বান জানিয়ে আসার এক পর্যায়ে নিখোঁজ হন সালাহ উদ্দিন।

গত ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিনকে ধরে নিয়েছিল বলে তার পরিবারের পাশাপাশি বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন।

তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে আটক বা গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করা হয়।

সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধান বিএনপির ‘অন্তরালের’ বিষয় বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন।

অবশ্য শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদে সালাহ উদ্দিন তাকে ঢাকা থেকে অপহরণের পর প্রায় দুই মাস ছোট একটি কক্ষে আটকে রাখার পর চোখ বেঁধে সেখান থেকে বের করে গাড়িতে দীর্ঘ পথ ঘুরিয়ে শিলংয়ে ফেলে যাওয়ার কথা বলেছেন বলে মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছে।