সিলেটে বিলবোর্ড এখন বিএনপির

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফর করে গেছেন ১৭ সেপ্টেম্বর। এ উপলক্ষে সিলেটের বিভিন্ন বিলবোর্ড দখল করে প্রচার করা হয় ‘সরকারের সাফল্য’। এবার সেই সব বিলবোর্ড ঢেকে যাচ্ছে ‘ইলিয়াসকে ফিরিয়ে দাও…’ দাবিসহ বিএনপির সমাবেশের প্রচারণায়।বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী ৫ অক্টোবর সিলেটে আসছেন। তাঁর সফর সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরের চৌহাট্টা এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড সাঁটানো শুরু করেছে বিএনপি।বিএনপি সূত্র জানায়, ৫ অক্টোবর সিলেটের চৌহাট্টা মোড়সংলগ্ন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১৮-দলীয় জোটের সমাবেশে বক্তব্য দেবেন খালেদা জিয়া। তাঁর এ সমাবেশকে উপলক্ষ করে ওই এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিলবোর্ড, ব্যানার, তোরণ ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে।সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে ওই সব প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী গত বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালকসহ ‘নিখোঁজ’ হন। বিএনপির জাতীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ইলিয়াসকে সরকারই ‘গুম’ করে রেখেছে। তাঁর সন্ধান দাবিতে সিলেটে ‘ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে প্রায় দেড় বছর ধরে আন্দোলন চালানো হচ্ছে। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, চৌহাট্টা থেকে ভিআইপি সড়কের মুখে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিলবোর্ড ছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট সফর উপলক্ষে সেখানে ওই বিলবোর্ডে সাঁটানো হয়েছিল ‘সরকারের সাফল্যের’ চিত্র। গতকাল সকাল থেকে ওই বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে বিএনপির প্রচারণা। বিরাট আকারের ওই বিলবোর্ডে ইলিয়াস আলীর ছবির সঙ্গে বড় করে লেখা, ‘ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দাও…’। এর সঙ্গে ছোট করে আছে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ছবি।

এ ছাড়া একাধিক বিলবোর্ড ব্যানারে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সামসুজ্জামান জামানকে ‘বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি’ উল্লেখ করে ইলিয়াসের সঙ্গে তাঁর ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর এই প্রথম খালেদা জিয়া সিলেটে আসছেন। তাই প্রচারণায় ইলিয়াসকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর উপলক্ষে ‘উন্নয়নের অঙ্গীকার, ধারাবাহিকতা দরকার’ স্লোগানে বিলবোর্ডগুলোতে বিভিন্ন খাতে সরকারের অর্জনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল।

ওই সব বিলবোর্ড জনস্বার্থমূলক ছিল দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেটা ছিল সরকারি উন্নয়ন প্রচারণা। এ প্রচারণায় জাতীয় স্বার্থ ছিল। জাতীয় স্বার্থের প্রচার ঢেকে যদি দলীয় কিংবা নেতার প্রচারণা শোভা পায়, তাহলে সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হবে। এ থেকে সংঘাত পরিস্থিতি সৃষ্টিরও আশঙ্কা থাকে।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাবেক সাংসদ দিলদার হোসেন বলেন, ‘বিলবোর্ডের ওপর বিলবোর্ড সাঁটানোর শিক্ষাটা তো আওয়ামী লীগই দিয়েছে। এর পরও বিষয়টি আমরা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করব।’ সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব প্রচারণার দুটি দিক রয়েছে—একটি সাময়িক, অন্যটি স্থায়ী। স্থায়ী হলে সে ক্ষেত্রে বৈধতা খতিয়ে দেখে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে।’ নিজের নামে বিলবোর্ড টাঙানোর বিষয়ে তিনি বলেন, হয়তো কর্মী-সমর্থকেরা সেটা করেছেন।