সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন বিল নিয়ে আশাবাদী সালমান…সোহরাব হাসান, নয়াদিল্লি থেকে

লোকসভার আগামী অধিবেশনে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন বিল উত্থাপন করা হবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাউথ ব্লকে বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা জানান।
১৯৭৪ সালে সই হওয়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি ওই সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হলেও ভারতের সংসদে এখনো অনুমোদন পায়নি রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে। এমনকি ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরকালে সীমান্ত চুক্তির আলোকে যে সীমান্ত প্রটোকলে সই করেছিলেন, সেটিও দেশটির সংসদে উপস্থাপন করা যায়নি বিরোধী দলের প্রবল বিরোধিতার কারণে।
রাজ্যসভার বিগত অধিবেশনে সালমান খুরশিদ বিলটি পেশ করার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা এর অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্ত চুক্তি সংসদে উত্থাপনের ব্যাপারে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে। তিনি বিলটি পেশের বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানান।
এই চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের ক্ষতিপূরণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিরীহ বাংলাদেশি, বিশেষ করে ফেলানী হত্যার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফেলানীর ঘটনায় আমি গভীরভাবে দুঃখিত ও ব্যথিত।’
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সালমান খুরশিদ বলেন, চুক্তি সই না হলেও আন্তর্জাতিক এই নদীর পানির হিস্যা তো বাংলাদেশ পাচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, চুক্তি হলে বাংলাদেশের মানুষ আস্থা ফিরে পেত। এমন কথা সীমান্ত চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। চুক্তি সই না হওয়ায় কাজ থেমে নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারই সহযোগিতা বাড়াতে এবং বিদ্যমান সমস্যা কাটাতে কাজ করছে। পানি সমস্যার সমাধানে যৌথ অববাহিকাগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই অঞ্চলের দেশগুলো একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। আন্তযোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়ক ও রেলযোগাযোগ বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন আয়োজিত এক সভায় ভারতের কূটনীতিক, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকেরা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো অবিলম্বে নিরসনের ওপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বেড়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে। অতএব, গ্লাসের অর্ধেক খালি, সেটাই বড় করে না দেখে গ্লাসের যে অর্ধেক ভরাট আছে, সেখান থেকেই সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি, পিনাক চক্রবর্তী, অমলেশ ত্রিপাঠি ও রাজিদ মিত্তার উপস্থিত ছিলেন।