সুস্পষ্ট না হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা আছে

সুস্পষ্ট না হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা আছে

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে একটি রূপরেখা আছে, তবে সেটি সুস্পষ্ট নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা কী হবে সেটা সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল। গতকাল শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা কেউ কেউ এ ভাষণকে ইতিবাচক, বাস্তবসম্মত ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই আবার এ বক্তব্যে রাজনৈতিক সংকট কতটুকু দূর হবে, তা নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাস্তবসম্মত। দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এ বক্তব্যটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাকে বিকশিত করার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিতে বিরোধী দলের প্রতি আমি আহ্বান জানাই। আশা করি, তারা সাড়া দেবে।’
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘ভাষণটিকে ভালোই মনে করছি। বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করেই সর্বদলীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা নির্বাচন সম্পর্কে আস্থাহীনতা ও অনিশ্চয়তা দূর করবে। এ প্রস্তাবটি ইতিবাচক। বিরোধী দলের এটি গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।’
মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা একটা ভালো উদ্যোগ। আশা করব, সরকার নির্বাচন বিষয়ে বাকি সমস্যাগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’ তিনি জানান, আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভা আহ্বান করা হয়েছে। এ সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ব্যাপারে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ একটি নির্বাচনী বক্তৃতা। এতে তিনি সরকারের নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাঁর এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংকট কতটুকু দূর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নতুন কিছু নেই। এসব কথা তিনি আগেও অনেকবার বলেছেন। পুরনো কথাগুলো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আরেকবার বললেন। এভাবে ভাষণ দিয়ে সমাধান হবে না। টেলিভিশন বা পত্রিকায় বক্তব্য নয়, পরস্পরের সঙ্গে সামনাসামনি আলোচনায় সংকট সমাধান করতে হবে। আশির দশকে বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে এক টেবিলে বসে আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান করা হতো। এখনো তা-ই করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে সুপঠিত, সুবিন্যস্ত ও আবেগাশ্রিত আখ্যা দিয়ে বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, কিছু ফাঁকফোকর থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এ বক্তব্যে বিদ্যমান বাস্তবতার কতটুকু পরিবর্তন হবে তা বলা মুশকিল। কারণ ক্ষমতার পালাবদল আর ক্ষমতার দখলকেন্দ্রিক অবস্থানে অনড় থাকলে একের অবস্থান অন্যের কাছে অচলায়তন মনে হতে পারে।
গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে কিছু নির্দেশনা আছে, তবে সেটা পুরোপুরি নয়। আমাদের মধ্যে এখনো একটি অবিশ্বাসের বিষয় রয়ে গেছে। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিকে যাওয়াই আমাদের জন্য ভালো। অথচ তিনি একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি থেকে সরে এসেছেন। উনি ওনার জায়গায় রয়ে গেছেন। আবার যেটি বলেছেন, সেটাও সুস্পষ্ট না।’