তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৯৯৬ ও ২০০১

সেই উপদেষ্টারা কে কোথায়

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব নাকচ করে সাবেক দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত নাগরিকের’ নেতৃত্বে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০ উপদেষ্টার মধ্য থেকে পাঁচজন পাঁচজন করে মোট ১০ জনকে নিয়ে এ সরকার হবে। সাবেক দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁরা ছিলেন মোট ১৮ জন। কারণ দুজন দুই সরকারেই ছিলেন। ওই ১৮ জনের মধ্যে চারজন বেঁচে নেই। জীবিতদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন না বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার-১৯৯৬
১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল ১১ সদস্যের। প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি অবসর জীবন যাপন করলেও গবেষণা ও লেখালেখিতে এখনো সক্রিয়।
উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও অধ্যাপক শামসুল হক মারা গেছেন। অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস নানা ক্ষেত্রে এখনো সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।
সাবেক সচিব এ জেড এম নাসিরউদ্দিন অবসর জীবন যাপন করছেন।
মে. জে. (অব.) ডা. আবদুর রহমান খান (এ আর খান) চিকিৎসাসেবায় এখনো সক্রিয় আছেন। তিনি বারডেমের সঙ্গে যুক্ত, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এখনো সক্রিয় আছেন অর্থনীতি ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অ্যাপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৯৯৬ ছাড়াও ২০০১ সালে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন মেয়াদে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমা চৌধুরী বর্তমানে ইমেরিটাস অধ্যাপক। অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর ক্লাস নিতে পারেন না।
খ্যাতনামা প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এখনো শিক্ষা ও গবেষণায় সক্রিয় আছেন। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য হিসেবে কর্মরত।
এ উপদেষ্টা পরিষদের আরেকজন সদস্য ছিলেন গভর্নর সেগুফতা বখত চৌধুরী। তিনি গুরুতর অসুস্থ বলে জানা গেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার-২০০১
তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের মোট সদস্য ছিলেন ১১ জন। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন বিচারপতি লতিফুর রহমান। তিনি এখন অবসর জীবন যাপন করছেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী।
অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ এস এম শাজাহান এনজিও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, এ মুহূর্তে সমঝোতা বড় প্রয়োজন। দুই পক্ষই অনড় অবস্থান থেকে সরেছে বলে মনে হচ্ছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছেন।
সাবেক সচিব এম হাফিজ উদ্দীন খান বর্তমানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনিও নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন না বলে জানিয়েছেন।
ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত, বেসরকারি হার্ট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা।
শিল্পোদ্যোক্তা রোকেয়া আফজাল রহমান বর্তমানে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি এবং ক্ষুদ্রঋণ দানবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ‘মাইডাস’-এর নির্বাহী প্রধান।
সাবেক সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী এখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং ব্র্যাক নেট-এর চেয়ারম্যান।
এ উপদেষ্টা পরিষদের আরেকজন সদস্য ছিলেন প্রকৌশলী এ কে এম আমানুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি।