সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নাটকীয় কিছু ঘটছে!

কী ঘটতে যাচ্ছে রাজনীতিতে? নির্বাচন কখন হবে, নাকি নির্বাচনই হবে না, নির্বাচন হলে বিএনপি অংশ নেবে কিনা, শেষ পর্যন্ত কোন পদ্ধতির সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে কী ঘটবে- এরকম অংসখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশব্যাপী। সরকার ও বিরোধী দলের অনড় অবস্থানকে ঘিরে সব মহলেই নানা অনুমান, বিশ্লেষণ ও বহুমুখী তত্ত্বের ছড়াছড়ি। নিশ্চিত উত্তর মিলছে না কোথাও। সাধারণ মানুষের চেয়ে রাজনীতির ভেতরের খবরাখবর একটু বেশি রাখেন, কিছুটা হলেও বেশি জানেন- এরকম কেউ কেউ বলছেন, চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবর মাস হতে পারে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। ঘটতে পারে নাটকীয় অনেক কিছুই। যার কারণে আগামী দেড় মাস নাটকীয়তায় পূর্ণ থাকতে পারে।

শুধু দেশের ভেতরেই নয়, এ ধরনের বার্তা খোদ বিদেশিদের কাছ থেকেও হরহামেশা আসছে। তবে অনেক বার্তার মধ্যে ঠিক কোনটি ঘটবে, সে ব্যাপারে অনেকেই নিশ্চিত নন। দেশের ও বাইরের এসব বার্তার সারমর্ম অনেকটা এরকম যে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহসাই সমঝোতা না হলে অনেকেই যা অনুমান করতে পারছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে বলতেও পারছেন না, হিসাবও মেলে না- শেষ পর্যন্ত সেরকম ঘটনাই ঘটে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যাতে এলোমেলা হয়ে যেতে পারে নির্বাচনের সব হিসাব-নিকাশ, নির্বাচনের পরিবর্তে দৃষ্টি চলে যেতে পারে অন্যত্র।

এসব আভাসের অন্যতম বার্তা জাতীয় সংসদকে কেন্দ করে। সংসদ বহাল রেখে বা না রেখে নির্বাচন করা নিয়ে ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের ধূম্রজাল। কয়েক মাস আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সংসদ ভেঙ্গেই নির্বাচন হবে। সময়মতো আমি রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার অনুরোধ করবো। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দেবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে।’ তবে কয়েকদিন আগে সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখেই ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে।’ অভিন্ন কথা বলেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও। তবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য চূড়ান্ত নয়, আলোচনার মাধ্যমে অনেক কিছুই করা যেতে পারে।’

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান হলেও ভেতরে এনিয়ে ভিন্ন খবরও শোনা যাচ্ছে। আগামী দেড় মাসের যে কোনদিন সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে, এমন কথাও বলাবলি হচ্ছে। মেয়াদের আগেই সংসদ ভেঙ্গে গেলে পাল্টে যেতে পারে দৃশ্যপট। ঘটতে পারে নাটকীয় কিছু। এসব সূত্রের কোনো কোনোটি আবার এমনও বলছে, সংসদ বহাল রেখেই ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। বিএনপি বা তাদের জোটসহ আরও কোনো কোনো দল অংশ না নিলেও নির্বাচন একটা হয়ে যাবে।

সংসদ বহাল রাখা না রাখা নিয়ে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) রয়েছে এক ধরনের গোলকধাঁধায়। এনিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের মধ্যে রয়েছে মতভিন্নতা। তাদের কেউ বলছেন, সংবিধান অনুযায়ীই তারা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার কারও মতে, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনে সবার জন্য সমতল মাঠ তৈরি করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ঘোলাটে এই পরিস্থিতিতে যে কোনো সময়ই নাটকীয়ভাবে যে কোনো ঘটনাই ঘটে যেতে পারে।

প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান নিয়েও নানারকম বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ‘নির্দলীয় সরকার ছাড়া কিংবা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না’- প্রকাশ্যে বিএনপির দলীয় অবস্থান এটা হলেও অন্যরকম আভাসও মিলছে। বড় ধরনের ছাড় দিয়ে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরেই নাটকীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চমক দেখাতে পারে বিরোধী জোট। যারা এই নাটকীয়তার আভাস দিচ্ছেন তারা বলছেন, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা ঠিকভাবে হলে ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত-এরকম আত্মবিশ্বাস থেকে অবস্থানে পরিবর্তন আনতে পারে বিএনপি।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারাও প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এমন দাবি করছেন। তারাও বলছেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে, সবাইকে নিয়েই নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীও এক অনুষ্ঠানে বলেছেন- বিএনপিসহ সবাইকে নিয়েই নির্বাচন হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফও বলেছেন, নির্বাচনে সব দলই অংশ নেবে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর আগে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে এবং তাদেরকে আসতে হবে। অবশ্য বিএনপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের এই দাবি অস্বীকার করছেন।

নির্বাচন প্রশ্নে সমঝোতার সম্ভাবনা কতটুকু, যদি আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমঝোতা না হয়, তাহলে কি ঘটতে পারে? এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র ধারণা দিয়ে বলছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সামগ্রিক বার্তাগুলোর হিসাব-নিকাশে দেখা যায়,সমঝোতার সম্ভাবনা কম।