স্কুলশিশুকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

Judge
রাজধানীর মিরপুরে পাঁচবছর বয়সী এক স্কুলশিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল মঙ্গলবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

গত এক মাসে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যেই এক বছর আগের এই মামলার রায় এল।

আসামি মো. মিনহাজ উদ্দিন (২৪) পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়ায় হলি ক্রিসেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরবির শিক্ষক ছিলেন। আর ধর্ষণের শিকার শিশুটি ছিল ওই স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্রী।

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মিনহাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আরবির শিক্ষক হিসাবে মিনহাজের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের ‘সর্বোত্তম’ নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া।

“সেই দায়িত্বে থেকে তিনি এক ছাত্রীকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে যে পশুত্ব দেখিয়েছেন, তাতে কেবল শিক্ষক সমাজই নয়, পুরো মানব সমাজের বিশ্বাস ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।”

মামলার বিবরণে বলা হয়, গত বছরের ১১ মার্চ স্কুল ছুটির সময় শিশুটিকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে কাঁদতে দেখেন তার নানী। পরে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, চকলেটের লোভ দেখিয়ে স্কুলের টয়লেটে নিয়ে ওই শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করে।

শিশুটিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। মেয়েটির বাবা শিক্ষক মিনহাজের নামে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী জানান, বিচার চলাকালে বাদীপক্ষে মোট নয় জনের সাক্ষ্য শোনেন বিচারক।

এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলী আলী আসগর স্বপন জানান, মামলার আসামি মিনহাজকে মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রায়ের জন্য মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

কুড়িগ্রামের ছেলে মিনহাজ ঢাকায় শ্যাওড়াপাড়া এলাকাতেই থাকতেন। রায় শুনে তার কোনো ভাবান্তর দেখা যায়নি। আসামির কাঠগড়ায় তিনি ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

স্বপন জানান, আদালত জরিমানার ২ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকা মেয়েটির পরিবারকে দিতে বলেছে।