হুংকার দিয়ে নিশ্চুপ এরশাদ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে আসছিলেন। এমনও বলেছিলেন, তিনি সৈনিক, কখন আঘাত করতে হয় তা তিনি জানেন। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগকে ‘বেইমান’ বলেও আখ্যায়িত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৫ অক্টোবরের আগেই মহাজোট ছাড়বেন তিনি।

২৫ অক্টোবরের পর এক সপ্তাহ পার হলেও চুপ আছেন এরশাদ। এর মধ্যে পাঁচ দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার সিঙ্গাপুর গেছেন তিনি।

এদিকে মহাজোটের প্রধান শরিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন এ জোটের অন্য শরিক দলগুলোও আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক জাপার অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে জাপার সভাপতিমণ্ডলীর তিনজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, মহাজোটে থাকা না থাকা কিংবা নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে এরশাদের অবস্থান এখন পর্যন্ত দোদুল্যমান। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, তা পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করবেন না। এ কারণে এরশাদ আপাতত চুপচাপ আছেন বলে দলের নেতারা মনে করছেন।

এরশাদ গত ১৪ অক্টোবর রংপুরে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, ‘২৫ অক্টোবরের আগেই আমি মহাজোট ছাড়ব। কারণ, আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে বেইমানি করেছে। বেইমানদের সঙ্গে আর থাকতে চাই না। তাদের ব্যর্থতার দায়ভার আমরা নেব না।’ তার আগে বলেছিলেন, কোনো একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না। তিনি দালাল হয়ে মরতে চান না।

এরপর গত ২০ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের নেতৃত্বে জাপার নেতারা বৈঠক ও নৈশভোজে অংশ নেন। ওই নৈশভোজের পরপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টিকে নিয়েই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হবে। আর, জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকবে কি থাকবে না, তা নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। কারণ, বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে।

পরদিনই আশরাফের এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এরশাদ। তিনি সৈয়দ আশরাফের ওই বক্তব্যকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও দুর্ভাগ্যজনক’ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মহাজোট ত্যাগ করার ব্যাপারে জাতীয় পার্টিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছে। তিনি শিগগিরই সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

কিন্তু ২৫ অক্টোবরের পর এরশাদ একেবারেই নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। জাপার অন্যান্য নেতার ধারণা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। অন্যথায় ২৫ অক্টোবর থেকে সরকার পতনের লক্ষ্যে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছিলেন। এ কারণে ২৫ অক্টোবরের পর এরশাদ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ২৫ অক্টোবরের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট সে অর্থে সরকারবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়নি। এ কারণে এরশাদ আরও সময় নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২৫ তারিখের পর কেবল ২৬ তারিখ নয়, এরপর আরও অনেক দিন আছে। আসলে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।’