১১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিল লংমার্চ

বাগেরহাটের রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে সরকার ১১ অক্টোবরের মধ্যে সরে না এলে ১২ অক্টোবর থেকে সুন্দরবন রক্ষায় নতুন কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছে জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

গতকাল শনিবার মংলার দিগরাজ বাসস্ট্যান্ডে পাঁচ দিনের লংমার্চের কর্মসূচির শেষ দিনে সুন্দরবন ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মংলায় জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হয়। এর আগে গতকাল বিকেল চারটায় লংমার্চ বাগেরহাট থেকে মংলার দিগরাজে পৌঁছায়। এখানে সমাপনী সমাবেশে সুন্দরবন ঘোষণাপত্র পাঠ করেন জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহামঞ্চদ। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, সরকার ১১ অক্টোবরের মধ্যে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে সরে না এলে ১২ অক্টোবর থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু ব্যবস্থা আছে, কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নেই।

জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহমঞ্চদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, গণসংহতির সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকীসহ সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিল্পী-পরিবেশবিদ-অর্থনীতিবিদ-প্রকৌশলী-মানবাধিকার কর্মীসহ জাতীয় নেতারা।

শেখ মুহমঞ্চদ শহীদুল্লাহ বলেন, রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে সুন্দরবন ধ্বংস করে ভারতীয় এনটিপিসি লভ্যাংশের সিংহভাগ নিয়ে যাবে। তাদের এ স্বার্থ কোনোক্রমেই হাসিল করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হবে।

বাগেরহাটে সমাবেশ: সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির শেষ দিনে গতকাল বাগেরহাট শহরের পুরোনো কোর্ট চত্বরে এক সমাবেশে শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল দলমত-নির্বিশেষে গণমানুষের দাবি।

জাতীয় কমিটির বাগেরহাট শাখার আহ্বায়ক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাসদের খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির বিমল বিশ্বাস, গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী প্রমুখ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণায় সুন্দরবনের ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকার অস্বীকার করতে পারেনি। কারণ, তা বিজ্ঞানসম্মত ও যুক্তিযুক্ত। তাই সরকার মিথ্যা প্রেসনোট দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা সুন্দরবনকে হারাতে দেব না।’

এর আগে বেলা পৌনে একটায় খুলনা থেকে লংমার্চটি বাগেরহাটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন ট্রাফিক মোড়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে লংমার্চের প্রায় চার হাজার কর্মী বৃষ্টি উপেক্ষা করে হেঁটে বাগেরহাট শহরে প্রবেশ করেন। বাগেরহাট থেকে বেলা সাড়ে তিনটায় লংমার্চটি শহরের রেলরোড থেকে সুন্দরবন-সংলগ্ন মংলার দিগরাজের উদ্দেশে রওনা হয়।

খুলনায় সমাবেশ: গতকাল সকাল ১০টায় খুলনা থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হয় লংমার্চ। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় খুলনা নগরের শহীদ হাদিস পার্ক হলে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কমিটির খুলনা জেলা আহ্বায়ক মনোজ দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বলছে, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি, এটি একটি বড় মিথ্যাচার।’ এ সময় শহীদ হাদিস পার্ক ও এর আশপাশের এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।