২৪ অক্টোবরের পরও সংসদ চলতে পারে

সমকাল প্রতিবেদক
চলতি সংসদের অধিবেশন ২৪ অক্টোবরে শেষ না করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন মহাজোটের সিনিয়র নেতারা। ওই দিনকে কেন্দ্র করে দেশে
বিশৃঙ্খলা তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে তারা বলেন, ২৪ অক্টোবরের পরে সংসদের অধিবেশন চালাতে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। ওই দিন থেকে সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন গণনা শুরু হবে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে আর সংসদ বসবে না।
গতকাল সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ক্ষমতাসীন মহাজোটের শীর্ষ চার সিনিয়র নেতা একই ধরনের মত প্রকাশ করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় স্পিকার আগামী ২৩ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করেন। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ২৪ অক্টোবরের পরও অধিবেশন চালানোর পরিকল্পনা করেছে। যদিও স্পিকারের সভাপতিত্বে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ২৪ অক্টোবরই বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনের শেষ কার্যদিবস হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বা তার কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেননি।
সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন বিলসহ বেশ কয়েকটি বিল এখন বর্তমান সংসদে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ ও পূজার জন্য ৬ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর রোববার পর্যন্ত মুলতবি রাখার কথা ছিল। তবে পরিবর্তিত সিদ্ধান্তে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। যদিও কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিনকে অধিবেশন মুলতবির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। গতকাল অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে অনির্ধারিত এ আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। পরে অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও জাসদ নেতা মইনউদ্দীন খান বাদল।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সংবিধান অনুসারে এ সংসদের মেয়াদ ২৪ জানুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত রয়েছে। এ বিষয়ে স্পিকারের বক্তব্য নিয়েও তারা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে জনমনে বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তিনি কথায় কথায় বলেন ২৫ তারিখ থেকে দেশে অসহযোগ আন্দোলন করবেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করবেন। আন্দোলনের কথা বলতেই পারেন। তবে তাদের উদ্দেশ্য সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে না দিয়ে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন কমিশন তারিখ দেবে, সরকার দেবে না বা সংসদ থেকে তা বলা হবে না। তিনি বলেন, ২৪ অক্টোবরের পর আর সংসদ বসবে না এটাকে ধারণ করে বিরোধীদলীয় নেতা গোলযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কথা তিনি বলছেন। তবে সংসদ তো ২৪ তারিখের পরও বসতে পারে। ২৪ তারিখেই সংসদ শেষ হবে এটা ঠিক নয়। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে এ বিষয়ে স্পিকারের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৫ বছরের জন্য বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পরেই এ সংসদ আপনা-আপনি বিলুপ্ত হবে। ২৪ অক্টোবরের কথা যারা বলছেন তারা নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কোনো এক খেলা তিনি খেলতে চাচ্ছেন। তাই একের পর এক হুঙ্কার দিচ্ছেন। বগুড়ায় গিয়ে তিনি বলেছেন, সময়মতো সিপাহি-জনতা জাগবে। এর আগে তিনি এরশাদের আমলে এমন বক্তব্য দিয়ে নিজেই হারিয়ে গিয়েছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ২৪ অক্টোবরের পর কী হবে? বিরোধীদলীয় নেতা ২৪ তারিখের কথা কোথায় পেলেন? সংবিধান অনুযায়ী এ সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। সুতরাং ৫ বছরের এক মুহূর্ত আগেও এ সংসদ ভাঙার অধিকার কারও নেই। সংবিধান এ অধিকার দিয়েছে। যেহেতু সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই, কাজেই শেষের পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আর নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এ নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, বা সংসদ বসবে না_ এ কথা কোথাও নেই। সংবিধানে ৬০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার যে বিধান সেটা শিথিল করা হয়েছে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, কেবিনেট থাকতেই হবে। কেবিনেট ভাঙতে হবে, ছোট করতে হবে_ এটা কোথাও বলা নেই। সংবিধানে বলা আছে, একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কেবল আরেকজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। আর একটি সংসদ আরেকটি সংসদ না আসা পর্যন্ত থাকবে। সংবিধানে স্পষ্টই বলা আছে, এ মুহূর্তের জন্য এ প্রজাতন্ত্র প্রতিনিধিহীন থাকবে না। কাজেই এখন সংসদ আছে।
জাসদ নেতা মইনউদ্দীন খান বাদল বলেন, ২৪ অক্টোবরের পর দেশ অনিশ্চিত গন্তব্যে যাত্রা করছে বলে যারা প্রচার করছেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই_ এদেশে কিছুই হবে না। বিরোধীদলীয় নেতার স্বামী জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছেন। তিনি আরেকবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।