২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ বহাল থাকলেও অধিবেশন বসবে না। মন্ত্রিসভা থাকবে, তবে কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে না।এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সচিবসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের আলোকে নির্বাচনের সময়সীমা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। সচিবেরা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সময়ে কাজ করার জন্য তাঁরাও পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন।সভায় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও নাশকতা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্বাচন সামনে রেখে সমাপ্তপ্রায় কাজগুলো দ্রুত শেষ করাসহ নির্বাচনমুখী বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন সচিবদের। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ বিষয়গুলো জানান।বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সচিব প্রথম আলোকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘কাউকে না কাউকে এটা শুরু করতেই হবে। সেটা আমরাই শুরু করতে চাই। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য সচিবদেরও ভূমিকা আছে। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।’সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট না দেয়, তাহলে ক্ষমতায় আসব না। তবে সচিবেরা থাকবেন। এ জন্য অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সচিবদের কাজ করতে হবে।’মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ জানুয়ারি সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগের ৯০ দিন সংসদ বহাল থাকবে, তবে অধিবেশন বসবে না। এই সময়ে মন্ত্রিসভাও বহাল থাকবে, তবে তারা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে না। তাই জরুরি কাজ থাকলে দ্রুত করতে হবে। কারণ, তখন (অন্তর্বর্তী তিন মাস) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করা যাবে না। সভায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের গত পৌনে পাঁচ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সচিবদের প্রতি আহ্বান জানান।

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ: বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা যদি আগামী নির্বাচনে আবার জয়ী হতে পারেন, তাহলে সব স্তরে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। প্রশাসনিক ক্ষমতা যাবে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত। এ জন্য সচিবদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বেলা পৌনে দুইটা থেকে বিকেল সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক হয়। এতে ৫৮ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ২৩ জন সচিব বক্তব্য দেন।

স্থায়ী পে-কমিশন চান সচিবেরা: সভায় সচিবদের পক্ষ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বেতন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্থায়ী বেতন কমিশন দ্রুত গঠন করার অনুরোধ জানানো হয়। কমিশনের সুপারিশের আগে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে একাধিক সচিব জানান।

এ ছাড়া আবাসনসংকট সমাধানের অনুরোধ জানিয়ে সচিবেরা বলেন, সরকারের অব্যবহূত জমি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

মেধাবীরা যেন সরকারি চাকরি, বিশেষ করে প্রশাসনিক চাকরিতে আকৃষ্ট হন এবং থাকেন, সে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেন সচিবেরা।

পদ ও পদোন্নতি: সভায় সচিবদের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। বর্তমানে ৭০ সচিবের মধ্যে সাতজন জ্যেষ্ঠ সচিব। এ ছাড়া সচিবেরা প্রশাসনে পদোন্নতির ওপর জোর দেন। এ বিষয়ে নানা সমস্যার কথা ওঠে সভায়। বলা হয়, আশির দশকে কয়েকটি বিসিএস ব্যাচে প্রায় এক হাজার ৬০০ কর্মকর্তা প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ জন্য প্রশাসন পিরামিড কাঠামো অনুযায়ী হচ্ছে না। তবু পদোন্নতির প্রয়োজন আছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়োজন আছে বলেই পদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।