সিলেটে ভর্তি-বাণিজ্য নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ক্ষোভ

৭০ লাখ টাকা মেরে দিয়েছেন ছাত্রনেতারা

সিলেটে ছাত্রনেতারা ভর্তি-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, মদনমোহন কলেজে সাম্প্রতিক ভর্তি প্রক্রিয়ার ৭০ লাখ টাকা মেরে দিয়েছেন ছাত্রনেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটে একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘রাতারগুল: জলারবনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা’বিষয়ক এ আলোচনার আয়োজক বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
অর্থমন্ত্রী সিলেট-১ আসনের সাংসদ হিসেবে মদনমোহন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। আলোচনা সভায় পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি কলেজে ভর্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, মদনমোহন কলেজে এবার এক হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভর্তি ফি দিয়েছে। বাকি ৯০০ জনের ভর্তির টাকা ছাত্রনেতারা মেরে দিয়েছেন। ওই টাকা যদি পাওয়া যেত, তাহলে ৭০ লাখ টাকা আয় হতো। তবে চুরি বন্ধ করতে অনলাইনে ভর্তি ফি নেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
ভর্তি-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৯০০ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে ফি জমা দিলে তারা ছাত্রত্ব ফিরে পাবে। তিনি মন্তব্য করেন, ছাত্রসমাজ (মদনমোহন কলেজের) বদমাশ হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আপাতত আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ ভর্তি-বাণিজ্যে জড়িত ছাত্রনেতারা কারা, এ প্রশ্নের জবাব তাঁর কাছে নেই বলে জানান তিনি।
তবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বিব্রত বলে জানান কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ। তিনি বলেন, ছাত্রনেতারা ভর্তি-বাণিজ্যে জড়িত থাকলে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া উচিত। নইলে তিনি পরিচালনা কমিটির পদ ছেড়ে দেবেন।
মদনমোহন কলেজ সিলেটের অন্যতম বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ছাত্রলীগের একক তৎপরতা চলছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে চাইলে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
ওই আলোচনায় সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম।
সভায় অর্থমন্ত্রী ছাড়াও সিলেট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বক্তব্য দেন। রাতারগুলের পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের মতামত জানান।