National Museum completes 100 years

Prokash Chandra Das, Director General of Bangladesh National Museum, speaks in an exclusive interview with The Guardian in December 2013.

শতবর্ষ একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্ব এবং গৌরবের বিষয়। ৭ আগস্ট ২০১৩ তারিখে আমরা বাঙালিরা এই গৌরবের অধিকারী হলাম, কারণ এই দিন আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর’ শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করলো। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, যিনি ‘১৪০০ সাল’ কবিতাটি লিখে শতবর্ষের মর্মকথা আমাদের ভিতর জাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাই ১৯১৩ সালে যে বছর তিনি নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছিলেন, সেই একই বছর ৭ আগস্ট কিছু পণ্ডিত ব্যক্তির চিন্তা, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফলে এই বাংলা অঞ্চলে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল। শতবর্ষ পরে এই প্রতিষ্ঠানটি আজ বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক আধারখেত্রে পরিণত হয়েছে। এই মুহূর্তে তাই জাদুঘর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাঁরা পথিকৃৎ ছিলেন বিশেষ করে জাদুঘরের প্রথম কিউরেটর ডক্টর নলিনীকান্ত ভট্টশালী যিনি তাঁর বুদ্ধিমত্তা, মেধা, শ্রম ও মনন দিয়ে আমৃত্যু জাদুঘরের সমৃদ্ধিতে আত্মনিবেদন করে গেছেন, তিনিসহ সকলকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় স্মরণ করছি।

Prokash Chandra Das, Director General of Bangladesh National Museum, speaks in an exclusive interview with The Guardian in December 2013.

জাদুঘর বা মিউজিয়াম বলতে, আমরা এমন একটি স্থান বা জায়গাকে বুঝি, যার কাজ হলো আমাদের জীবনের এক সময়কার প্রতিদিনের ব্যবহার্য উপাদানসমূহ যা বর্তমানে লুপ্তপ্রায়, যেগুলোকে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করে সর্বসাধারণের মনকে আকৃষ্ট করা এবং তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা। সে কারণে জাদুঘর হলো, একটি জাতির সভ্যতা, ঐতিহ্য, ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভাণ্ডার। সুতরাং জাদুঘরের মাধ্যমেই একটি জাতির শেকড় সন্ধান করা যায়। এই যে একটি জাতির পরিচয় বহনকারী প্রতিষ্ঠান জাদুঘর, তা আজ সারাবিশ্বের দেশে দেশে গড়ে উঠেছে। প্রথম জাদুঘর কবে, কোথায়, কাদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল, তা বৃহত্তর গবেষণার বিষয়- তবে বলা যায়, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের গোড়ার দিকে চঃড়ষবসু ও ঝড়ঃবৎ (টলেমি আই সোটার) প্রতিষ্ঠিত আলেকজান্দ্রিয়ার জাদুঘর নির্মাণের ধারার ক্রমবিকাশ ঘটেছে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে। আজ তাই পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক দেশেই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই জাদুঘরগুলো কোথাও বিষয়ভিত্তিক, কোথাও সর্ববিষয়কেন্দ্রিক। ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈড়ঁহপরষ ভড়ৎ গঁংবঁস (ওঈঙগ)- এর সংজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সর্ববিষয়কেন্দ্রিক অর্থাৎ বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নতত্ত্ব, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত উপাদান বা নিদর্শন এবং পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যিক নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও এইসব নিদর্শনসমূহ নিয়ে নিয়ত গবেষণা পরিচালনা করছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।

Prokash Chandra Das, Director General of Bangladesh National Museum, speaks in an exclusive interview with The Guardian in December 2013.

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ১৯১৩ সালে ‘ঢাকা যাদুঘর’ নামে যাত্রা  শুরু করে। এর ইতিহাসটি হলো এরকম- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হবার পরে পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের গভর্নর স্যার ল্যান্সলট হেয়ারের কাছে ঢাকায় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য বিশিষ্ট মুদ্রাতত্ত্ববিদ এইচ.ই. স্টেপালটন কর্তৃক ১৯০৯ সালে পেশকৃত প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি বিভিন্ন কারণে। এরপর বঙ্গভঙ্গ রদ হলে ১৯১২ সালের ২৫ জুলাই তারিখে ঢাকার নর্থবেঙল হলে পূর্ববাংলা ও আসামের তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেলকে দেয়া সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঢাকায় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রস্তাব করেন এবং ১৯১৩ সালের ৫ মার্চ তারিখে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে সরকারি অনুমোদন গেজেট প্রকাশিত হয়। গেজেট প্রকাশের কয়েক মাস পরে অর্থাৎ ঐ বছরের ৭ আগস্ট পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ঢাকায় নবনির্মিত সচিবালয়ের (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে) একটি কক্ষে ‘ঢাকা যাদুঘর’ উদ্বোধন করেন গভর্নর লর্ড কারমাইকেল। মোট ৩৭৯টি ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি ১৯১৪ সালের ২৫ আগস্ট দর্শকদের জন্য খুলে দেয়া হয়। শতবর্ষ পরে এই জাদুঘরের বর্তমান নিদর্শন সংখ্যা হলো- ৮৬ হাজার ৫১৪টি এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তর জাদুঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সকলেই জানেন, ১৯১৫ সালে জুলাই মাসে তৎকালীন সচিবালয়ের কক্ষ থেকে ‘ঢাকা যাদুঘর’ স্থানান্তরিত হয় ঢাকার নিমতলীর নায়েব নাজিমের বারোদুয়ারি ও দেউরিতে। ১৯৮৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা যাদুঘর’ আত্মীকরণ করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ও নিমতলী থেকে শাহবাগের বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ১৯৮৩ থেকে ২০১৩ এই ৩০ বছরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রেখে বৈচিত্র্যময় নিদর্শন প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি দর্শকের কাছে প্রস্ফুটিত গোলাপের মতো সাড়া জাগিয়েছে। বর্তমানে ৪৪টি গ্যালারিতে প্রায় ৪ হাজার নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে।

Bangladesh-National-Museum1
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধীনে বর্তমানে ৪টি শাখা জাদুঘর রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকায় আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, সিলেটে ওসমানী জাদুঘর, চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও ময়মনসিংহে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা। এ ছাড়া ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহশালা নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন ঐ সংগ্রহশালার নিদর্শন সংগ্রহ ও গ্যালারি সজ্জিতকরণের কাজ চলছে। আগামী ০১-০১-২০১৪ তারিখে তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাঙালির শত-সহস্র বছরের গৌরবময় সংস্কৃতির ভাণ্ডার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমণ শেষে আজ যে শতবর্ষে পদার্পণ করলো সেখানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি, এদেশের বিভিন্ন খেত্রর কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গের বিশাল অবদান রয়েছে। বিশেষ করে জাদুঘরের অকৃত্রিম বন্ধু উপহারদাতাগণ। এঁদের কয়েকজনের নাম করতেই হয়- হাকিম হাবিবুর রহমান খান আখুনজাদা, নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী, এ.এস.এম. সৈয়দ তৈফুর, খান সাহেব মৌলভী আবুল হাসনাত আহমেদ প্রমুখ। এখানে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করতে হয় জাতির পিতাবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ১৯৭২ সালে ‘ঢাকা মিউজিয়াম বোর্ড অব ট্রাস্টিজ’ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে একটি পরিকল্পনা পেশ করে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষাকারী এই প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাদুঘরটি সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

BNM2সময়ের সাথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। তথ্য-প্রযুক্তির এযুগে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর তার চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে।
বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’  বাস্তবায়ন এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দু’টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন’, ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর তথ্য যোগাযোগ ও ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম’ এবং ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক তিনটি কর্মসূচির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাদুঘরের নিদর্শনের ঙনলবপঃ ওউ কাজ সম্পন্ন করে নিদর্শন-সামগ্রীর তথ্য সংরক্ষণ করা, বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী সংস্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং জাদুঘরের নিদর্শনের সার্বখনিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নং গ্যালারিগুলোকে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সজ্জিত করে দু’টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী সংস্থাপন শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনী দু’টি হলো :
(১) ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নং গ্যালারিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৭৫৭-১৯৭১)
(২) ৪০ নং গ্যালারিতে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ (১৯৭২-১৯৭৫)

BNM3উক্ত গ্যালারিগুলোর পরিচিতিমূলক চারটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে জনগণ বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারেন। বইগুলো হলো:
(ক) ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম (১৭৫৭-১৯৪৭), (খ) ভাষা আন্দোলন, (গ) মুক্তিযুদ্ধ ও (ঘ) স্বাধীন বাংলাদেশ (১৯৭১-১৯৭৫)।
লাইট, সাউন্ড অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া প্রজেকশনের মাধ্যমে ৩৮ নং গ্যালারিতে চারটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রগুলো হলো :
(ক) ভাষা আন্দোলন, (খ) ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, (গ) মুক্তিযুদ্ধ, (ঘ) স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ।
কিয়স্ক বা টাচ্‌ স্ক্রিনের সাহায্যে তথ্য ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম : বাঙালি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ (১৭৫৭-১৯৪৭), বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম : বাঙালি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ (১৯৪৮-১৯৭০), বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম : বাঙালি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ-১৯৭১, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ (১৯৭১-১৯৭৫)-এর ইতিহাস দর্শকগণকে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১৯১৩-২০১৩) উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে জানুয়ারি ২০১২ থেকে দু’বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে আসছে। তম্মধ্যে জুলাই ২০১২ থেকে জুন ২০১৩ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে-BNM4
(১) জুলাই ২০১২ বাংলাদেশ ব্যাংকের অংশগ্রহণে ‘আবহমান বাংলার মুদ্রা ও কাগজি নোট’ শীর্ষক প্রদর্শনী।
(২) আগস্ট ২০১২ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরের প্রকাশনাসমূহ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী; রচনা প্রতিযোগিতা; জাতীয় জাদুঘরে দেশি/বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের গ্যালারি পরিদর্শন-সম্পর্কিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনী; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১২ পালন উপলক্ষে ১-১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সৌজন্য হিসেবে প্রাপ্ত এবং জাতীয় জাদুঘরের নিজস্ব সংগ্রহ থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী; বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী শীর্ষক গ্রন্থের ওপর ও তাঁর কর্মময় জীবন নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা।
(৩) অক্টোবর ২০১২ জাতীয় জাদুঘরের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময় সভা; ওঝঊঝঈঙ ঘোষিত উযধশধ: ঈধঢ়রঃধষ ড়ভ ওংষধসরপ ঈঁষঃঁৎব ড়ভ অংরধহ জবমরড়হ ২০১২ উদ্‌যাপন উপলড়্গে ওপেন ডে’জ কনফারেন্স ‘ঈবষবনৎধঃরড়হ ড়ভ উযধশধ: ওংষধসরপ ঈঁষঃঁৎব ঈধঢ়রঃধষ ভড়ৎ অংরধহ জবমরড়হ-২০১২’ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
৪) নভেম্বর ২০১২ রাজধানী ঢাকায় অবসি’ত বিভিন্ন জাদুঘরের সাথে জাতীয় জাদুঘরের মতবিনিময় সভা। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উপহারদাতা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথিকৃৎ প্রফেসর ডা. জোহরা বেগম কাজীর শততম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং তাঁর উপহৃত নিদর্শন প্রদর্শনী; ওঝঊঝঈঙ ঘোষিত উযধশধ: ওংষধসরপ ঈঁষঃঁৎব ঈধঢ়রঃধষ ভড়ৎ অংরধহ জবমরড়হ-২০১২ উদ্‌যাপন উপলড়্গে কারম্নশিল্প প্রদর্শনী; পর্যটনশিল্প বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ শীর্ষক মতবিনিময় সভা; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশপর্যটন বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এবং প্রাইভেট ট্যুর অপারেটরস্‌ প্রতিষ্ঠান এই মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে।
(৫) ডিসেম্বর ২০১২ ঢাকাস’ জাপান দূতাবাস ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে জাপানি ঐতিহ্যবাহী ফিউশন মিউজিক কনসার্ট; মহান বিজয় দিবস ২০১২ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকের সহায়তায় শিশু-চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা; শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১২ পালন উপলক্ষে শিক্ষার্থি  ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা সভা; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সজ্জিত ট্রাকের অংশগ্রহণ।
(৬) জানুয়ারি ২০১৩ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও জাহানারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রদর্শনী; ড. নলিনীকানত্ম ভট্টশালীর জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিশেষ সেমিনার; ৩৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় অংশগ্রহণ।

BNM5 (৭) ফেব্রম্নয়ারি ২০১৩ বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ; জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দেশব্যাপী স্কুল শিক্ষার্থীদের ‘তোমার দেখা জাদুঘর’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতা। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা এবং ভাষাসংগ্রামী ও শিক্ষার্থীদের আলোচনা সভা।
(৮) মার্চ ২০১৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অংশগ্রহণে দুর্লভ বই ও সাময়িকী প্রদর্শনীর আয়োজন; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস-২০১৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়াস’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপেলেক্সে আয়োজিত বইমেলায় জাদুঘরের অংশগ্রহণ; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশুদিবস-২০১৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে অষ্টম-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাথে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিশুসংগঠক ও বুদ্ধিজীবী সমন্বয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান; মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৩ পালন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে শিক্ষার্থীদের আলোচনা সভা।
(৯) এপ্রিল ২০১৩ বাংলা বর্ষবিদায় ও নববর্ষ ১৪২০ উদ্‌যাপন উপলক্ষে পিঠা ও কারুশিল্প মেলার আয়োজন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং প্রত্যয় ও প্রতিপালকের যৌথ পরিবেশনায় লোকসংগীতানুষ্ঠান।
(১০) শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ইঁফফযরংঃ গঁংবঁস -এ বাংলাদেশ গ্যালারি সজ্জিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ।
(১১) মে ২০১৩ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫২তম জন্মবার্ষিকী ও নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ১০০ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে ছায়ানটের সাথে যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ১৮ মে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস-২০১৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ‘ইরড়ষড়মরপধষ ধহফ ঊহারৎড়হসবহঃধষ উবঃবৎরড়ৎধঃরড়হ ঊভভবপঃং ড়হ ঙৎমধহরপ গধঃবৎরধষং ধহফ ঞযবরৎ ঈড়হঃৎড়ষ’ শীর্ষক সেমিনার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাথে যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে নজরুল ইন্সটিটিউটের সাথে যৌথ উদ্যোগে বিশেষ প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনু্‌ষ্ঠান।

07

06

05

04

03

02

01

BNM6
(১২) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে জুন ২০১৩ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা-এর সহযোগিতায় অগ্নি নির্বাপন সম্পর্কে জাদুঘরকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও মহড়া এবং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈড়ষষবপঃরড়হ ড়ভ ঝরঃবং ড়ভ ঈড়হংপরবহপব-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে ৮ঃয জবমরড়হধষ ডড়ৎশংযড়ঢ় ড়ভ ঃযব অংরধহ ঝরঃবং ড়ভ ঈড়হংপরবহপব সেমিনার আয়োজন।
(১৩) উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে- ওঝঊঝঈঙ’র ব্রোশিউর, জাদুঘর সমাচার ‘জানুয়ারি-জুন ২০১২’, দুর্লভ বই ও সাময়িকী প্রদর্শনীর ক্যাটালগ, জাদুঘর সমাচার ‘জুলাই-ডিসেম্বর ২০১২’, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর ক্যাটালগ ও পোস্টার, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পত্রিকা, শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার, স্মরণিকা, স্মারকগ্রন’ এবং ৪টি কিউরেটরিয়াল বিভাগের নিদর্শন প্রদর্শনীর ক্যাটালগ।
(১৪) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বিষয়ক বিভিন্ন নথি, দলিল-দস্তাবেজ, রেজিস্টার, কর্ম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা, বার্ষিক প্রতিবেদন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সিদ্ধানত্মসমূহ, পাণ্ডুলিপি ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গবেষণা উপযোগী করার লক্ষ্যে জাদুঘরে নতুন আরকাইভস শাখা উদ্বোধন।
(১৫) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কথ্য ইতিহাস ধারণের ৩য় পর্যায়ে দেশের কীর্তিমান শিক্ষাবিদ, ভাষা সংগ্রামী, প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং বরেণ্য শিল্পীসহ মোট ১১জন বিশিষ্ট ব্যক্তির অডিও-ভিডিও সাক্ষাৎকার গ্রহণ।
(১৬) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূগর্ভস’ জাদুঘর সজ্জিতকরণ।
(১৭) কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং জাতীয় চার নেতার জাদুঘরকে শাখা জাদুঘর হিসেবে গ্রহণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ।BNM7

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং শাখা জাদুঘরসমূহের নিবেদিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধের ফলশ্রম্নতিতে উল্লিখিত সকল কুর্মকান্ড সুসম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়িত বিশেষ কর্মসূচিগুলোতে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অবদানও অনস্বীকার্য। অবদান রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সকল সদস্যের। এ বছরও জাদুঘরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বার্ষিক প্রতিবেদন সম্পাদনা পরিষদের সদস্যদের আগ্রহ, প্রচেষ্টা ও ঐকানিত্মক পরিশ্রমে সার্বিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ ও সংযোজনের মাধ্যমে বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১২-২০১৩ প্রকাশ করা হলো।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, সকল উপহারদাতা, সুহৃদ, শুভানুধ্যায়ী, পরামর্শক, গবেষক এবং জাদুঘরের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শে বিশাল বটবৃেক্ষর মতো শতবর্ষের এই দর্শক-নন্দিত সংস্কৃতির ভাণ্ডার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে সেবামূলক, আধুনিক এবং গতিশীল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে।BNM8
শতবর্ষের পথচলায় জনগণের অভিব্যক্তি জাদুঘরকে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দেবে। সেই সাথে সময়ের প্রবহমানতায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর শুধুমাত্র নিদর্শনের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় সংস্কৃতির জাগরণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আগামী দিনে জাতিকে আশার আলো দেখাবে- এ প্রত্যাশা এবং প্রত্যয় সকলের। জাদুঘরে এসে আলোকিত হবে মানুষ, বিকাশ ঘটবে জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তির – এই প্রত্যাশায় অতিক্রান্ত হোক আমাদের শতবর্ষ।

প্রকাশ চন্দ্র দাস
মহাপরিচালক
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর